যতক্ষণ সহিংসতা হানা দেয় না, ততক্ষণ আমাদের সভ্যতা এক যৌথ খামার। সভ্যতার মরণফাঁদ রূপে তাই শনাক্ত করা যায় এই সহিংসতাকে। এর বিভৎস প্রকাশের এক নমুনা আমরা দেখেছিলাম আজকের দিন নাইন ইলেভেনে। যখনই নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে দাঁড়িয়েছি টের পেয়েছি সে আক্রমণের মাত্রা। প্রায় তিন হাজার প্রাণহানি আর ১০ হাজার আহতের সংখ্যা আর কতটুকু প্রকাশ করে? মানুষের […]

 নাইন ইলেভেন : সভ্যতার ক্ষত

যতক্ষণ সহিংসতা হানা দেয় না, ততক্ষণ আমাদের সভ্যতা এক যৌথ খামার। সভ্যতার মরণফাঁদ রূপে তাই শনাক্ত করা যায় এই সহিংসতাকে। এর বিভৎস প্রকাশের এক নমুনা আমরা দেখেছিলাম আজকের দিন নাইন ইলেভেনে।

যখনই নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে দাঁড়িয়েছি টের পেয়েছি সে আক্রমণের মাত্রা। প্রায় তিন হাজার প্রাণহানি আর ১০ হাজার আহতের সংখ্যা আর কতটুকু প্রকাশ করে? মানুষের মন গহনে বুনে দেওয়া অবিশ্বাসে লাগে দমবন্ধ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ার অন টেরর আমাদের আসস্ত করেনি। বরং যুদ্ধ বিরোধী মন বার বার খুঁজেছে শান্তির সমীকরণ। থামাও দাউ দাউ মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু নেভাতে পারিনি আফগানিস্তান, ইরাকের আগুন।

দুটি বিমানের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আছড়ে পড়া গোটা বিশ্বের ভূরাজনীতি বদলে দিল। মনুষ্যত্বের চেয়ে গুরুত্ব পেতে থাকল ধর্মীয় পরিচয়। নিঃশ্বাসে – প্রশ্বাসে আমরা ডুবে গেলাম সন্দেহে। এ যেন মানুষ শিকারের এক বিরামহীন খেলা।

হে শাসকবৃন্দ, আর কত প্রাণ আপনাদের চাই? কত হাজার মরলে তবে মানবে তুমি শেষে?

এই নাইন ইলেভেনের ধারাবাহিকতায়ই অনিঃশেষ এক যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের খুঁজে পেলাম আমরা বিশ্ববাসী। হাডসন নদীর পানি ফুরাবে। হয়তো নায়াগ্রাও শুকিয়ে যাবে। কিন্তু সভ্যতার রক্তস্রোত থামবে না। তছনছ হয়ে গেল আবার যৌথ খামারে ফেরার স্বপ্ন। দুঃস্বপ্ন যুগে এরপর পা রেখেছি। প্রতি তন্দ্রায় দুঃস্বপ্ন। জেগে থাকলেও কাটে না যার করাল ঘোর।

জানি না কবে মানুষেরা একজোট হবে। ক্ষমতাবানদের উদ্দেশ্যে এই মৌলিক জিজ্ঞাসা ছুঁড়ে দেবে- হোয়াট অ্যাবাউট আস? কার পাপে যুদ্ধে মরে শিশু? শান্ত নদী আর শ্যামলীমা পূর্ণ হয় রক্তে।

না। হাল ছাড়ছি না এখানে। যে সম্মিলিত সংস্কৃতি আর জাতিসত্ত্বার বন্ধনে এই দেশ তাকেই ভালোবাসবো। যে মহান ঔদার্য শিখেছি পূর্ব পুরুষের শিক্ষায় তাকে ভুলবো না।

নাইন ইলেভেন তাই বারবার আসে। সহিংসতা বিপরীতে শ্বেত কপোতের ডানা ঝাপ্টে জানান দেয় – শান্তিই আমাদের আরাধ্য। আর কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধ নয়।